জবনী
শায়খ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল হক হাশেমী (রহঃ) (১৮৮৪--১৯৭২) ছিলেন বিংশ শতাব্দীতে হিন্দুস্তানের একজন খ্যাতিমান ইসলামী পন্ডিত, মুহাদ্দিছ, লেখক ও দাঈ। তিনি একজন দক্ষ হাদীছশাস্ত্র বিশারদ হিসাবে পরিচিত ছিলেন। আক্বীদা ও আমলে সুন্নাতের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি আলেমদের নিকট বহুল প্রশংসিত ছিলেন। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশ ও হারামায়েন শরীফায়েনের মধ্যে ইসলামী জ্ঞানচর্চার সেতুবন্ধন হিসাবে কাজ করেন। প্রায় ৭০ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি বহু যোগ্য আলেম ও দাঈ তৈরি করেছেন। তার রচিত অসংখ্য গ্রন্থও ইসলামী জ্ঞান ও তথ্যভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
আত্মশুদ্ধি
বেশ হ্যান্ডসাম দেখতে এক যুবক বাড়ি বাড়ি ফেরী করে ছোট ঝড় ফ্যান বিক্রি করতেন। একদিন এক সুন্দরী মহিলা তার কাছে একটি ফ্যান কিনলেন। তারপর আরও একটি কিনলেন। কিছুক্ষণ পর বললেন, আমার ঘরে এসো, আমি নিজের হাতে বেছে আরো কয়েকটি নিতে চাই।
দুনিয়াবী জীবনের খেল-তামাশা
সারবস্তু :১. দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশার ও প্রাচুর্য লাভের প্রতিযোগিতা ভিন্ন কিছুই নয়। ২. সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসায় সত্যসেবী মুমিনের নিকট পার্থিব তৃপ্তি তুচ্ছই মনে হয়। ৩. পার্থিব খেল-তামাশা ছেড়ে পরকালীন সফলতা অর্জনের জন্য কষ্টকর জীবনই মুমিনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। আল্লাহ আমাদের সকলকেই পার্থিব জীবনের মোহ ছেড়ে পরকালীন পাথেয় অর্জনের তাওফীক দান করুন।
বাকসংযমেই আত্মসংযম
মানুষের ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার চলায়-ফেরায়, কথায়-আচরণে, মন-মননে। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মানুষকে বড় বড় সার্টিফিকেটে ভূষিত করে এবং তাতে মানুষের যোগ্যতার একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে দেয়। কিন্তু তাতে যেটা স্পষ্ট হয় না তা হ’ল তার ব্যক্তিত্বের পরিচয়, তেমনি থাকে না তার মানবিক গুণাবলীর অপরূপ সৌন্দর্য কিংবা অমানবিক হিংস্রতার কদর্য কালিমা। ডিজিটাল ফিল্মে যদি মানুষের হৃদয়ছবিকে ধারণ করা যেত, তবে হয়ত জানা যেত তার আসল পরিচয়। অনুভব করা যেত হৃদয়ের শ্বেত-শুভ্র ভালোবাসার কাশফুল কিংবা মুখ ও মুখোশের ফারাক। বিজ্ঞানের অগ্রগতি যত আকাশছৌঁয়াই হোক না কেন, মানবচরিত্রের এই বিচিত্র রহস্যময়তা ধারণ করা তার পক্ষে অসম্ভবই রয়ে যাবে। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিজগতে এমন কিছু জিনিস অদৃশ্য ও দুর্বোধ্য করে রেখেছেন, যা একদম সামনাসামনি দাড়িয়েও উদ্ঘাটন করার সাধ্য যেন কারো নেই। সত্যিই সে পরাজগৎ এক অপার বিস্ময়ের।
জবনী
শাহ অলিউল্লাহ মুহাদ্দিছ দেহলভী। ভারত উপমহাদেশের আধুনিক যুগের সংস্কারকদের মধ্যে তিনি সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য আলেম। তাকে The Inspiration of Ahle hadeeth Movement বলে আখ্যায়িত করা হয়। তিনিই প্রথম হাদীছে আরবাঈন লিখেন। তিনি বলেন, হামদ্ ও ছালাতের পর এই চল্লিশটি হাদীছ হ’ল নবী করীম (ছাঃ) হ’তে ধারাবাহিক এবং ছহীহ সনদে বর্ণিত’।[1] যার ব্যাখ্যা একই সাথে খুব প্রাঞ্জল এবং অর্থবহ। যা অধ্যয়নের মাধ্যমে কল্যাণের অভিযাত্রীরা প্রভূত উপকার লাভ করবে ইনশাআল্লাহ।
ইমান
আল্লাহ মানুষকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি। বরং তাঁর ইবাদত-বন্দেগীর জন্যই সৃষ্টি করেছেন। মানুষের উপর আবশ্যকীয় বিধানগুলি তারা ফরয ও ওয়াজিব হিসাবে পালন করবে এবং সুন্নাত-নফল ইবাদতগুলি মীযানের পাল্লায় ফরযের সম্পূরক হিসাবে গণ্য হবে। তথাপি কেউ আল্লাহর ইবাদতের পাশাপাশি ঈমান বিধ্বংসী কোন পাপে জড়িয়ে পড়লে তার সমস্ত সৎআমল বরবাদ হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় একনিষ্ঠ তওবা ব্যতীত তার মৃত্যু হলে পরকালীন জীবনে আদি নিবাস জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামই তার হবে ঠিকানা। আলোচ্য প্রবন্ধে এমন কিছু পাপের কথা উল্লেখ করা হ’ল, যার কারণে ঈমান থাকা সত্ত্বেও মানুষকে জাহান্নামে যেতে হবে।